১২ মাসি কালো তরমুজ (Baromashi Black Watermelon) একটি উচ্চফলনশীল হাইব্রিড জাত, যা সারা বছর চাষ করা যায়। নিচে বীজ রোপণ থেকে ফলন পর্যন্ত বিস্তারিত গাইডলাইন দেওয়া হলো:
—
*১. বীজ বপনের সিজনঃ*
– বারোমাসি জাত হওয়ায় বছরের যেকোনো সময় চাষ করা সম্ভব, তবে *সেপ্টেম্বর – মার্চ* সবচেয়ে উপযুক্ত।
—
*২. জমি ও মাটির প্রস্তুতি (ছাদেও একই নিয়ম প্রযোজ্য):*
– দোআঁশ বা বেলে দোআঁশ মাটি ভালো
– জমি ভালভাবে চাষ করে জৈব সার (গোবর, ভার্মি কম্পোস্ট) ও রাসায়নিক সার (TSP, MOP, ইউরিয়া) মিশাতে হবে
– pH মাত্রা: ৬.০ – ৭.৫
—
*৩. বীজ বপন ও চারা তৈরি:*
– *সরাসরি বপন* বা *বেডে চারা করে রোপণ* করা যায়
– বীজ বপনের আগে ৮-১২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত অঙ্কুর হয়
– প্রতি গর্তে ২টি বীজ, চারা হলে ১৫-২০ দিন বয়সে রোপণ
– *দূরত্ব:* গাছের গাছ ২ ফুট × লাইনের লাইনে ৬ ফুট
—
*৪. সারের পরিমাণ ও প্রয়োগ পদ্ধতি:*
(১ শতকে প্রযোজ্য)
– *গোবর/কম্পোস্ট* – ৪০-৫০ কেজি
– *ইউরিয়া* – ৪০০ গ্রাম (৩ কিস্তিতে)
– *TSP* – ৩০০ গ্রাম
– *MOP (পটাশ)* – ২৫০ গ্রাম
– *জিপসাম, দানাদার সার বা ট্রেস এলিমেন্টস প্রয়োগ করলে ফলন ভালো হয়*
—
*৫. পানি সেচ ও নিষ্কাশন:*
– শুষ্ক মৌসুমে সপ্তাহে ১-২ বার সেচ
– অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া যাবে না
—
*৬. মাচা বা ঝাঁপি তৈরি:*
– গাছ বাড়ার সাথে সাথে মাচা তৈরি করুন, ফল ঝুলে থাকবে
—
*৭. পরাগায়ন (প্রয়োজনে হাতে করুন):*
– সকালে স্ত্রী ফুলে পু*৮. রোগবালাই ও প্রতিকার:*
– *লিফ স্পট, পাউডারি মিলডিউ, ফল পচা* ইত্যাদি হলে জৈব/বায়োফাঙ্গিসাইড বা প্রয়োজন হলে অনুমোদিত কীটনাশক ব্যবহার
– *নিম তেল, ট্রাইকোডার্মা, গারলিক স্প্রে* জৈব উপায়ে ভালো কাজ করে
—
*৯. ফল সংগ্রহ:*
– ফুল ফোটার ৩০-৩৫ দিন পর ফল সংগ্রহের উপযুক্ত হয়
– তরমুজের নিচে থাকা লতা শুকিয়ে গেলে ফল সংগ্রহের সময়
—
*১০. ফলন ও ওজনঃ*
– প্রতি গাছে ২–৩টি তরমুজ ধরে
– প্রতিটি তরমুজের ওজন *২.৫ – ৪.৫ কেজি* হতে পারে
– এক শতকে ২৫–৩০টি গাছ ধরে, ভালো পরিচর্যায় *৭০–৯০ কেজি* পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়
—
*বিশেষ টিপসঃ*
– ফুল আসার সময় অতিরিক্ত পানি বন্ধ
– গরম বেশি হলে হালকা ছায়া দিন
– জৈব ও অর্গানিক চাষে ফোকাস করুন
—
চাষের পুরো সময়কাল: *৭৫ – ৯০ দিন*
যদি প্রয়োজন হয়, আমি এর জন্য একটি চার্ট বা ইনফোগ্রাফিও বানিয়ে দিতে পারি।রুষ ফুলের পরাগ লাগিয়ে দিন, ফলন নিশ্চিত হবে